অবশেষে ‘সার্টিফাইড’ প্রাপ্তবয়স্ক হলাম!

ইন্টারনেটে কেনাকাটা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে৷ পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রিডিট কার্ড, ব্যাংক কার্ড, প্যাপল ব্যবহারে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই৷ তাছাড়া যেকোন কিছু ইন্টারেনেটে অর্ডার দিলে খুব দ্রুতই পৌঁছে যায় ঘরদোরে৷ জীবনটা তাই অনেক সহজ৷ তবে এই ইন্টারনেট দুনিয়ায় আজকাল নানা কিছু প্রমাণের জটিলতাও তৈরি হয়েছে৷

খুলেই বলা যাক, মাস কয়েক আগে এক ঘনিষ্ঠজনের বরাতে লাভফিল্ম ডটডিই নামক এক ওয়েবসাইটের সঙ্গে পরিচয়৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন বেচাবিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন’এর একটি সহযোগী সংস্থা এটি৷ এই ওয়েবসাইটের কাজটা অনেকটা আমাদের পাড়ার মোড়ের সিডি/ডিভিডির দোকানের মতো৷ লাভফিল্মে আপনি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র অর্ডার করতে পারেন, এরপর সেগুলো পৌঁছে যাবে আপনার মেইলবক্সে৷ বিশেষ প্যাকেটে থাকা এই সিনেমা আবার দেখার পর সেই প্যাকেটে পুড়েই কোন একটা পোস্টবক্সে ফেলে দিন৷ ব্যস, কদিন পরেই চলে আসবে আপনার পছন্দের তালিকা থেকে অন্য কোন ছবি৷

শুধু এখানেই শেষ নয়৷ আপনি চাইলে লাভফিল্মের ওয়েবসাইট থেকেই অনেক সিনেমা দেখতে পারবেন৷ অনেকটা ইউটিউবে যেভাবে আমরা ভিডিও দিখে তেমনটা৷ পার্থক্য হচ্ছে, এটা উম্মুক্ত নয়, শুধুমাত্র ওয়েবসাইটটির বৈধ ব্যবহারকারীরা এভাবে সিনেমা দেখতে পাবেন৷

যাহোক, পরিচিতজনের কাছ থেকে লাভফিল্ম ডটডিই সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্যের পর আমি নিজেও সেটা পরখ করতে চাইলাম৷ এক্ষেত্রে সহায়ক হলো তৃতীয় একটি সাইট৷ সেটাতে আবার বিভিন্ন শস্তা অফার পাওয়া যায়৷ সেই সস্তা সাইটে দেখা গেল, লাভফিল্মের সাবসক্রিপশন ‍ফি অনেক কম৷ বিশেষ অফারের আওতায় তিনমাসের একটি প্যাকেজ কিনলাম খুব সস্তায়৷ একথা বলছি এজন্য যে, ৪৫ হাজার সিনেমা বৈধভাবে দেখার জন্য মাসে এক হাজার টাকা খরচ খুব বেশি নয়৷ বিশেষ করে জার্মানিতে যখন নতুন কোন ছবির একটি ডিভিডি কপি কিনতেই খরচ কমপক্ষে দু’হাজার টাকা!

লাভফিল্ম নিয়ে আমার প্রারম্ভিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মধুর৷ প্রথম দু’মাসে আমার প্রিয় তারকা জেসন স্ট্যাথ্যামের গুটিকয়েক ছবি দেখে নিলাম৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আমার আগ্রহের ছবিগুলোও পেলাম এই সাইটে৷ সেগুলোও দেখা হলো৷ বিপত্তি বাধলো তৃতীয় মাসে৷ জেসন স্ট্যাথ্যামের ‘দ্য মেকানিক’ ছবিটি অর্ডার দিলাম৷ কিন্তু এবার লাভফিল্ম আমার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুললো! বিষয়টি আমার কাছে হাস্যকর মনে হল, কেননা যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আমি তাদের সেবা কিনেছি, সেটিই বয়স প্রমাণের জন্য যথেষ্ট৷ বলাবাহুল্য, আমার এই যুক্তি ধোপে টিকলো না৷ 

বরং লাভফিল্ম কর্তৃপক্ষ আমাকে একটি অনলাইন ফর্ম ধরিয়ে দিল৷ সেটা পুরণ করে পোস্টে তাদের কাছে পাঠাতে হবে৷ তবে আমি পাঠালে হবে না৷ নিকটস্থ পোস্ট অফিসে এই ফর্মটি নিয়ে যেতে হবে এবং সেখানে আমার পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পর তারা সার্টিফিকেট দেবে যে আমার বয়স আঠারো পেরিয়েছে৷ এই সার্টিফিকেটসহ ফর্মটি পাঠাতে হবে লাভফিল্মের ঠিকানায়!

প্রবাস জীবনে দিনের বেলায় মানুষের অলস সময় কমই থাকে৷ অন্তত আমার তাই মনে হয়৷ তাই পোস্ট অফিসে গিয়ে ফর্ম পুরণ করা এবং সেটা পাঠানোর মত সময় করা খানিকটা দুঃসাধ্য ব্যাপার বৈকি৷ কিন্তু কী আর করা যাবে? বয়স আঠারো না হওয়ায় আমার পছন্দের অনেক ছবি দেখতে না পারার বেদনা গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছিল৷ সুতরাং হাজির হলাম পোস্ট অফিসে৷ প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ভালো নয়৷ কেননা, আমার ঝকঝকে টাকের সঙ্গে জার্মানির ভিসা সংক্রান্ত কার্ড প্রদর্শন যথেষ্ট ছিল না৷ তাই, পোস্ট কর্মী আমাকে পাসপোর্ট নিয়ে হাজির হতে বললেন৷

দ্বিতীয়বার গেলাম সেখানে৷ বহুক্ষণ আমার পাসপোর্ট ঘেঁটে কর্মীর জবাব, খুবই জটিল পাসপোর্ট৷ তোমার জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন, তোমার নাম বানান কর? পারিবারিক নাম কী? জন্ম কোথায়? কবে জন্ম? পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে কোথায়? নানা প্যাচালের পর পোস্টকর্মী আমাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সার্টিফাইড করলেন৷ আহা কি আনন্দ, আমি এখন প্রাপ্তবয়স্ক!

পুনশ্চ: আমাদের দেশের ডাকসেবা ক্রমশ নাকি উঠে যাচ্ছে৷ চিঠির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে বলে সম্ভবত এই অবস্থা৷ জার্মানিতে কিন্তু অবস্থাটা সেরকম নয়৷ বরং বিভিন্ন সেবা যোগ হচ্ছে ডাক ব্যবস্থায়৷ লাভফিল্ম ডটডিই পোস্টে করে সিনেমা পাঠায়, আবার আমরা পোস্টেই সেটা ফেরত দেই৷ এজন্য গ্রাহককে বাড়তি কোন টাকা দিতে হয়না৷ কারণ পোস্টের সঙ্গে লাভফিল্মের চুক্তি রয়েছে৷ এধরনের ব্যবসা বাংলাদেশেও হতে পারে৷
About these ads

About Arafatul Islam

Arafatul Islam is a multimedia journalist and blogger. He is currently living in Bonn, Germany. Arafat is keenly interested on social media, blog and other new media technologies. His intention is to promote “Bangla” language in The Internet World throughout his exertion and personal input.
This entry was posted in জার্মানি and tagged , , , , , , , . Bookmark the permalink.

One Response to অবশেষে ‘সার্টিফাইড’ প্রাপ্তবয়স্ক হলাম!

  1. চমৎকার একটা জিনিস জানলাম আরাফাত ভাই। আমিও খুব ছবির পোকা। কিন্তু পেপ্যাল না থাকাতে দেশে থেকে কিছুই দেখতে পারি না। বসুন্ধরা আর রাইফেল স্কয়ারের দোকানগুলোই ভরসা। আর নেটের যে গতি, ডাউনলোডের কথা চিন্তাই করতে পারি না!
    ভালো থাকুন খুব।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Connecting to %s